এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ , ২ , ৩) মূল : মিচিও কাকু Naturally Occurring Antimatter আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিপরমাণু তৈরি করা একটি ব্যয়বহূল কাজ । যদি এমন হত পৃথিবীর বাইরে অর্থাৎ মহাশূণ্যে খূব সহজেই প্রতিপরমাণু পাওয়া যেত ? অনুসন্ধানকারী দল জানিয়েছেন যে ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য পৃথিবীর বাইরে প্রতিপরমাণুর পরিমাণ (পরমাণুর তুলনায়) খুবই নগণ্য , যা পদার্থবিদদের একটু অবাকই করেছে । আমাদের এই বিশ্বজগতে প্রতিপরমাণু হতে পরমাণুর পরিমাণ বেশি যা ব্যাখ্যা করা একটু কঠিন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে পরমাণু এবং প্রতিপরমাণুর পরিমাণ ছিল সমান । আর এখন প্রতিপরমাণুর পরিমাণ কেন কম তা বিজ্ঞানীদের কাছে একটি ধাঁধা । সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ...
এই সিরিজের অন্য পোস্ট গুলো পড়তে চাইলে ফার্মিয়ান কণাদের সাথে মনে হয় প্রাথমিক পরিচয়টা আমাদের হয়েছে , আপনারা কি বলেন ? তবে এটা সত্যি যে যৌগিক ফার্মিয়ান কণাদের( বেরিয়নদের ) সম্পর্কে খূব বেশি কিছু বলা হয়নি , পরে বলার ইচ্ছা আছে । তার আগে বোসনদের সাথে প্রাথমিক পরিচয়ের পালাটা শেষ করি । আচ্ছা আপনাদের অবশ্যই মনে মনে প্রশ্ন আসছে এদের বোসন বলা হয় কেন ? উত্তর তো আপনারা জানেন (বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন মেনে চলে) । তবে কি এটা জানেন এই বোস যে একজন বাঙালী বিজ্ঞানী ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসু হচ্ছেন সেই মহান বিজ্ঞানী আর তাঁর নামানুসারেই এই ...
বিবর্তন প্রতিষ্ঠার পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেলো বিজ্ঞান। প্রথমবারের মত বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে বিবর্তনের রসায়ন পর্যায়ের পরীক্ষা চালিয়েছেন এবং আবিষ্কার করেছেন যে, রাসায়নিক ভাবেই বিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই গবেষণার মাধ্যমে বোঝা গেলো মহাবিশ্বের অন্যকোথায় প্রাণের বিকাশ ঘটলে সেখানেও স্বাভাবিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় প্রাণের বংশবৃদ্ধি এবং বিবর্তন ঘটবে এবং তার জন্য পৃথিবীর অনুরূপ ডিএনএ বা আরএনএ-র দরকার হবে না। এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি অতিসম্প্রতি ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যমব্রিজের MRC Laboratory of Molecular Biology এর গবেষক ফিলিপ হলিগার। DNA এবং RNA হচ্ছে পৃথিবীতে জীবের বংশবিস্তার এবং শারীরবৃত্তীয় কাজের মূল ভিত্তি। জীবের বংশগতীয় যাবতীয় বৈশিষ্ট্য DNA তে কোডের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা ...
আজ কিছু বড় বড় সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বড় যে সংখ্যাটি ব্যবহৃত হয় সেটা হল বিলিয়ন। টাকা গণনার জন্য এই সংখ্যাটি ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশের দু-চারজন মানুষ এই সংখ্যাটি ব্যবহার করেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির হিসাবের ক্ষেত্রে আরেকটু বড় সংখ্যা ব্যবহৃত হয়, ট্রিলিয়ন। এই ক্ষেত্রটির বাইরে আমাদের গণনা মিলিয়ন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ১ মিলিয়ন(Million) = ১০০০ হাজার = ১০০০০০০ = ১০^৬ ১ বিলিয়ন(Billion) = ১০০০ মিলিয়ন = ১০০০০০০০০০ = ১০^৯ ১ ট্রিলিয়ন(Trillion) = ১০০০ বিলিয়ন = ১০০০০০০০০০০০০ = ১০^১২ ট্রিলিয়নের বেশী যদিও হিসেব করতে হয়না এবং অদূর ভবিষ্যতে সেই সম্ভবনা অতি ক্ষীণ, তথাপি, যেহেতু এটা একটা গণিত বিষয়ক লেখা এই ধারাটা আরেকটু লম্বা ...
আমার লেখার হাত অতটা ভালো না। তাই খুব একটা লিখি না। তবে এই বিষয়টা নিয়ে একটু লেখতে ইচ্ছা করল তাই শুরু করলাম। ঘটনার সুত্রপাত আমি যখন ইন্টারে উঠলাম তখন। আমাদের বইতে দ্বিপদী উপপাদ্য নামে একটা জিনিস !! পড়ানো হয় (কিংবা গলধকরন করানো হয়)। আগে সবাইকে মনে করিয়ে সেটা দেই। $latex (a+b)^n=_{0}^{n}\textrm{C} a^n +_{1}^{n}\textrm{C}a^{n-1}b+\cdots\cdots+_{r}^{n}\textrm{C} a^nb^{n-r}+\cdots\cdots+_{n}^{n}\textrm{C}b^n$ আচ্ছা মোটামুটি সবাই এটা জানে। কিন্তু এইখানে nCr আকারের পদগুলো যে কারও ইচ্ছা অনুযায়ী আসে নি বরং এর পেছনে যে কিছু চমৎকার কারন আছে সেটা অনেকেই জানে না। আর অতি দুর্ভাগ্যর বিষয় আমাদের পাঠ্য বইতে এইসমস্ত বিষয় কখনই পড়ানো হয় না। এবার আসুন একটু আবার বিন্যাস-সমাবেশ মনে করিয়ে দিই। এই ...
আজ যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করব বলে ঠিক করেছি একে সবাই CP-Violation বলে । আমি যখন এই নামটির সাথে প্রথম পরিচয় হই তখন আমার খালি ফ্রাইড চিকেনের কথা মনে পড়তো । অনেকের চোখ নিশ্চয় এতক্ষণে কপালে উঠেছে । তারা হয়তো ভাববে ফ্রাইড চিকেনের সাথে CP-Violation এর আবার কি সম্পর্ক ? আসলে কোনই সম্পর্ক নাই কিন্তু নামটাই আমার কাছে যত বিপত্তির কারণ হয়ে দারিয়ে ছিল । আমার বাসা হতে ৫মিনিট হাঁটলে CP নামের ফ্রাইড চিকেনের একটি ফাস্টফুডের শপ । সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে আমরা বন্ধুরা মিলে CP এর পাশে বসে আড্ডা দিতাম কারনে-অকারনে ঐ ফাস্টফুড হতে খাওয়া হতো তাই বলতে পারেন ...
এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ , ২ , ৪) মূল : মিচিও কাকু শুদ্ধ বায়ুশূন্য স্থানে প্রতিপরমাণুরা চিরস্থায়ী , কিন্তু ঐ স্থানে যদি অল্প কিছু পরিমানও বায়ু থেকে থাকে তাহলে পরমাণু ও প্রতিপরমাণু এর মধ্যে সংঘর্ষ হবে এবং প্রতিপরমাণু গুলো ধ্বংস (Annihilate)হয়ে শক্তিতে রূপান্তর হবে । ১৯৯৫ সালে CERN ৯টি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু বানানোর ঘোষণা দিয়ে ইতিহাস রচনা করে । ফার্মিল্যাব এর বিজ্ঞানীরাও বসে ছিলেন না , তাঁরা ১০০টি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল । একমাত্র উৎপাদনের ব্যয় ব্যতিত এমন কোন বাধা নাই যা বিজ্ঞানীদের প্রতিপরমাণু উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে । অল্প কিছু আউন্স (১ আউন্স = ১/১৬ পাউন্ড ) প্রতিপরমাণু উৎপাদনে একটি জাতি ...
এই সিরিজের অন্য পোস্ট গুলো পড়তে চাইলে আমার আগের পোস্টে ফার্মিয়ান কণাদের (কোয়ার্ক এবং লেপ্টোন) কথা বলেছিলাম এদের সবারই স্পিন সংখ্যা কিন্তু ১/২ , তাহলে নিশ্চয়ই প্রশ্ন আসবে ‘অড হাফ ইন্টিজার (১/২)স্পিনযুক্ত কণার ’কথা বলার দরকার ছিল কি ? শুধু ‘হাফ ইন্টিজার’ বললেই হতো । আসলে আরেক অর্থে ফার্মিয়ান কণারা দুই রকম । • মৌলিক ফার্মিয়ান কণা এবং • যৌগিক ফার্মিয়ান কণা । আর এই যৌগিক ফার্মিয়ান কণাদের জন্যই শুধু ‘হাফ ইন্টিজার’ না বলে ‘অড হাফ ইন্টিজার (১/২) স্পিনযুক্ত কণা ১/২ , ৩/২ ....) বলতে হচ্ছে । এই পর্যন্ত যত গুলো ফার্মিয়ান কণাদের সাথে পরিচয় হয়েছে এরা সবাই মৌলিক ফার্মিয়ান কণা । তাহলে ...
স্বাতীর সঙ্গে বলটার ব্যাপারে আমার মতের মিল হল, কিন্তু এর পরেই একটা ব্যাপারে আমাদের দুজনের তর্ক লেগে গেল। আমি বললাম, “তুমি তো আমার জানালার পাশ দিয়ে আলোর গতিবেগের অর্ধেক গতিতে (u = 0.5c) বেড়িয়ে গেলে। আমি দুরবিন দিয়ে দেখলাম তুমি ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) কিলোমিটার দূরত্ব ২ সেকেন্ডে পার হয়ে গেলে। আলো যেহেতু সেকেন্ডে ৩,০০,০০০ কিলোমিটার যায়, তাই তোমার যান ঐ দূরত্ব পার হতে আমার ঘড়িতে ২ সেকেন্ড সময় নিয়েছে। তোমার ঘড়িতে তখন ক’টা বাজে?” স্বাতী বলল, “আশা করছি তুমি যে ২ সেকেন্ড সময় নির্ধারণ করেছ সেটা আমার আকাশযান যে তিন লক্ষ কিলোমিটার পার হয়েছে সেই খবরটা আবার তোমার কাছে আসতে যতটুকু ...
প্রতি-পরমাণু (Anti-atoms) এবং প্রতি-রসায়ন (Anti-Chemistry) এর উদ্ভাবন এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ , ৩ , ৪) মূল : মিচিও কাকু বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের কথা , যখন পদার্থবিদরা অনুধাবন করতে লাগল যে পরমাণু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত । এই কণা গুলোর মধ্যে ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ইলেকট্রন যা কিনা নিউক্লিয়াস কে কেন্দ্র করে ঘুরে , আর নিউক্লিয়াসে আছে মূলত ধণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট প্রোটন এবং চার্জবিহীন নিউট্রন । ১৯৩০ সালে (পল ডিরাক সর্ব প্রথম ইলেকট্রনের প্রতিকণা পজিট্রনের কথা ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন এবং যা ১৯৩২ সালে অ্যান্ডারসনের পরীক্ষায় আবিষ্কৃত হয় ) বিজ্ঞানীরা খুবই অবাক হয়েছিল যখন তাঁরা জানতে পারল যে প্রতিটি কণাই জমজ শুধু এদের ...
এই সিরিজের অন্য পোস্ট গুলো পড়তে চাইলে পূর্বের পোস্টে বোসন আর ফার্মিয়ান কণার কথা বলেছিলাম আজ ফার্মিয়ান কণাদের দিয়েই শুরু করি । এই কণা গুলোকে বলা হয় ‘বস্তু কণা’ অর্থাৎ আমরা আমাদের চারপাশে যাই দেখি সবই এই ফার্মিয়ান কণা দিয়ে গঠিত (তবে ফার্মিয়ান কণার মধ্যে যে বল আছে তা কিন্তু বোসন কণার জন্য সৃষ্টি) , এরা অড হাফ ইন্টিজার ১/২ স্পিনযুক্ত কণা অর্থাৎ ১/২ ,৩/২ ,৫/২ ... ইত্যাদি । এই কণাগুলো পদার্থবিদ ওলফ্ গ্যাংগ পাউলির বর্জন নীতি (পরমাণুর দু’টি বা তার বেশি সমতুল্য ইলেক্ট্রন থাকতে পারে না যার কোয়ান্টাম সংখ্যা গুলোর মান একই ) মেনে চলে । এই নীতি অনুযায়ী ...