Top 25 Most Viewed Posts



Archives by Month:


Archives by Subject:

পৃথিবীতে এতো জল কি ধূমকেতুই নিয়ে এলো?

পানি, যাকে জীবন বলে জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, একভাগ স্থল। এ কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি। কিন্তু এতো জল এখানে এলো কি করে? প্রথম দর্শনে প্রশ্নটা হয়তো বোকার মতো মনে হবে। খিলখিল করে হেসেও দিতে পারেন। মনে হতে পারে, পৃথিবীতে পানি সবসময়েই ছিলো নাকি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে এসেছিলো এধরনের চিন্তা একমাত্র পাগলরাই করতে পারে। কিন্তু এরকম নিরীহদর্শন প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে নাকানী-চুবানী খাওয়ায়। হাওয়ার ২১ ভাগ অক্সিজেনের তলে ডুবে থাকতে থাকতে যেমন আমরা কখনোই চিন্তা করতে পারি না যে একসময় বায়ুমন্ডলে বলতে গেলে কোন অক্সিজেনই ছিলো না। আবার পৃথিবীর আদি প্রাণের উদ্ভব হয়েছিলো যে ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে তাদের যে ...

উৎকন্ঠার বিবর্তনীয় শেকড় সন্ধানে

মানুষের সভ্যতার বয়স কতো? পৃথিবীর বয়সের তুলনায় খুববেশি হয়তো নয়, মাত্র দশ হাজার হবে। এর আগের মানুষেরা ছিলো অসভ্য, বর্বর। তারও আগে মানুষ যাপন করতো আদিম বন্য জীবন। সে আজ থেকে প্রায় দুই লাখ বছর আগের কথা। এই সুদীর্ঘকাল সময়ের মধ্যে আমরা মানুষ সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, স্বাস্থ্যজ্জ্বল সময় কাটাচ্ছি। যদি গত দুই লাখ বছর সময়টা গোনায় ধরি, তাহলে যেকোন সময়ের চেয়ে এখন মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সবচেয়ে কম। আমাদের ঘরবাড়িগুলো ঝড়ে উড়ে যায় না। আগের তুলনায় অনেক কম মানুষ ক্ষুধার্ত সময় কাটায়। অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে এখন মানুষের গড় আয়ুস্কাল বেশি। কলেরা কিংবা প্লেগের মহামারীতে অথবা দূর্ভিক্ষে গ্রামের পর গ্রাম ...

বাদুড় আর নিপাহ ভাইরাস রহস্য

এই কিছুদিন আগ পর্যন্তও শীতসকালে নিশ্চিন্তে খেজুরের রস খাওয়া যেত। এখন আর খাই না, ভয় করে -- এখানে নিপাহ ভাইরাস নেই তো? গত কয়েকবছর ধরে প্রতি শীতেই খবরে দেখি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে মারা যাচ্ছে কেউ না কেউ। বাদুড়দের প্রিয় খাবার খেজুরের রস। বাদুড়েরা নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার। খেজুরের রসে নিপাহ ভাইরাস সরবরাহ করে বাদুড়ই। বাদুড়েরা নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক আধার। এই ভাইরাসটি বাদুরের কোন ক্ষতি না করলেও মানুষ সহ গৃহপালিত পশুদের আক্রান্ত করে। এই ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, শতকরা ৪০ থেকে ৭৫ ভাগ। একটি ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে কিছুদিন আগে দেখলাম সর্বসাধারণকে খেজুরের রস খেতে নিষেধ করা হচ্ছে! চিন্তা করে দেখুন এই ...

মনভূবনের দুই বাসিন্দা – দ্বিতীয় কিস্তি

  দ্বন্দ্ব ও বিভ্রম এতক্ষণ আমরা মনের দুই বাসিন্দার সাথে পরিচিত হলাম। জগ্রত অবস্থায় দুইটি ব্যাবস্থাই সক্রিয় থাকে। ব্যাবস্থা ১ নিজে নিজেই কাজ করে। আর ব্যাবস্থা ২ একটু গদাইলস্করী চালে চলতে থাকে। মানে, ব্যাবস্থা ২ সবচাইতে কম খাটতে চায় – সে আরামপ্রিয়। সাধারণ অবস্থায় ব্যাবস্থা ২ তার উদ্যমশক্তির খুব সামান্যই কাজে লাগায়। ওদিকে ব্যাবস্থা ১ ক্রমাগত ব্যাবস্থা ২-কে বিভিন্ন মতামত দিয়ে চলছে। চারপাশের ঘটনার ছাপ, অন্তর্দৃষ্টি, প্রবৃত্তি এবং নানান রঙের অনুভূতি – এসব তথ্য থেকে এই সব মতামত দিচ্ছে সে। ব্যাবস্থা ২ এসব মতামত গ্রহণ করলে তা বিশ্বাস কিংবা আচরণে পরিণত হয়। যখন সবকিছুই নিয়মমাফিক চলছে বলে মনে হচ্ছে, তখন ব্যাবস্থা ২ ...

মনভূবনের দুই বাসিন্দা – প্রথম কিস্তি

  উপরের ছবিটি দেখলে আপনার মনের নদীতে ভেসে যাবে স্বৈরতান্ত্রিক ভাবনার ভেলা। একে আমরা বলতে পারি দেখার সাথে সাথে যুগপৎ অবচেতন চিন্তা। ছবি দেখেই বুঝতে পেরেছেন যে উনি একজন মহিলা। তিনি যে খুবই রাগান্বিত অবস্থায় আছেন তাও বোঝা যাচ্ছে। আপনি ধারণা করছেন এই ছবি তোলার পরমুহূর্তেই মহিলা চড়াগলায় কোন কথা বলবেন। এই ভাবনাগুলো কিন্তু আপনি এমনি এমনিই ভেবেছেন। নিজে নিজেই এই ধারণাগুলো আপনার মাথায় খেলে গেছে। মহিলার মেজাজ এখন কি রকম ও তিনি নিকট-ভবিষ্যতে কি রকম আচরণ করবেন – এটা অনুধাবন করতে আপনাকে কোন বিশ্লেষণ করতে হয় নি। এবং চিন্তাগুলো খুব দ্রুত আপনার মাথায় এসেছে। এই চিন্তাটা স্বৈরতান্ত্রিক, কারণ আপনি একে ...

বুদ্ধিদীপ্ত আচরণের মানে কি?

মাকড়শার জালের নির্দিষ্ট কারুকাজ। বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা। মৌচাকে মৌমাছির শৃঙ্খলিত জীবনযাপন। অবাক হয়ে যাই। এই জীবগুলো খুব পারদর্শী নিজেদের কাজে। কিন্তু, ওরা কি বুদ্ধিমান? বাবুই পাখি বছরের পর বছর ধরে একই ভাবে তার বাসাটা বানায়। বাবুই কি রাজী হবে চড়ুইয়ের মতো ভেন্টিলেটরের বাসা বানিয়ে থাকতে? অথবা মাকড়শা পারবে ভিন্ন কোন প্যাটার্নে জাল বুনতে? মৌমাছিরা কি কোনদিন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মিছিল-মিটিঙ করবে? এখানে চলে আসে রিফ্লেক্সের প্রশ্ন। মাকড়শাকে শিখতে হয় না জাল বোনা - সে জন্মের সাথে সাথে এই গুণটি নিয়ে আসে। একই কথা বাবুইয়ের শৈল্পিক বাসার ক্ষেত্রেও। জন্মের সাথে সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যায় একটি মৌমাছি কি করবে - সে কি ...

একজন বেলায়েভ, কুকুরের উদ্ভব আর একদল ‘পোষা’ শেয়াল

কুকুরের সাথে মানব সহচর্যের একটি দীর্ঘ ইতিহাস আছে। এ ইতিহাস কৃত্রিম নির্বাচনের। আজ থেকে বহুশতাব্দী আগে কুকুর বলে কোন প্রাণী ছিলো না। আসলে বর্তমান কুকুরেরাএকটি আলাদা প্রজাতি হিসেবে অনেক আগে আদিম নেকড়ে থেকে বিবর্তিত হয়েছে। এই বিবর্তনের প্রক্রিয়াটা এরকম ধরা হয় - আদিম মানুষের শিকার স্থান আর বসতির আশেপাশে খাবার উচ্ছিষ্টের লোভে একদল নেকড়ে ঘোরাফেরা করতো। ওদের মধ্যে কেউ কেউ খানিকটা মানুষের সঙ্গলিপ্সু হয়ে ওঠে সহজ খাবার আর নিরাপত্তার লোভে। মানুষ দেখলো এদেরকে সাথে নিলে শিকারেও সুবিধা, আবার রাতে বিভিন্ন বিপদ সম্পর্কে ওরা সচেতনও করে দিতে পারে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের মানুষ ঠিক সেই সব নেকড়েদেরকেই নির্বাচিত করতো - যারা একটু ...

মেডুসয়েড: ইঁদুরকোষ থেকে তৈরি এক কৃত্রিম জেলিফিশ

মেরী শেলীর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন নিশ্চয়ই অনেকে পড়েছেন। প্রাণ আসলে কি? প্রাণকে কি কখনো বোঝা যাবে? তৈরি করা যাবে কৃত্রিম ভাবে? এই প্রশ্নগুলো নানা পদের মানুষকে ভাবিয়েছে, অনেক সময় বিব্রতও করেছে। কিন্তু বিজ্ঞানকে কখনোই নিবৃত্ত করা যায় নি মানুষের ক্ষমতা কতদূর তা আরেকবার যাচাই করে দেখতে। ক্রেইগ ভেন্টরের কৃত্রিম প্রাণ আসলেই কৃত্রিম 'প্রাণ' কি না, এ বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সমালোচনা করেন। তাই বলে কৃত্রিম জীবন নিয়ে গবেষণা থেমে থাকে নি। সম্প্রতি এই ধারাবাহিকতায় মাইল ফলক হিসেবে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের কোষ থেকে তৈরি করলেন কৃত্রিম জেলিফিশ। জীববিজ্ঞানে যারা কারিগরীবিদ্যা ফলান, তাদের বলা যায় জৈবকারিগর বা বায়োইঞ্জিনিয়ার। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জৈবকারিগর এই কৃত্রিম জেলিফিশ তৈরি ...

মঞ্চে স্ট্রিঙের প্রবেশ

গত পোস্টে আমরা আপেক্ষিক কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্বের নাম শুনেছি। মৌলিক কণাগুলোর আচরণ, ধর্ম ব্যাখ্যা করার জন্য এই ক্ষেত্রতত্ত্ব বেশ ভালো কাজ করে। কিন্তু এর সীমাবদ্ধতা হলো তত্ত্বটি ধরে নেয় মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক দূর্বল বলে পরিত্যাজ্য।  অন্যদিকে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব মহাবিশ্বের গঠন, বিগব্যাঙ, ব্ল্যাকহোল, নক্ষত্র আর গ্যালাক্সিদের বোঝার জন্য দারুণ। কিন্তু এই তত্ত্ব ধরে নেয় মহাবিশ্ব ক্ল্যাসিক্যাল - মহাবিশ্বকে বোঝার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্সের প্রয়োজন নেই। এই ফাঁক পুরনের জন্য এলো স্ট্রিঙ তত্ত্ব। আমরা জানি, ভারী বস্তুকণা হেড্রনদের (যেমন প্রোটন, নিউট্রন) নির্দিষ্ট ভর এবং স্পিন আছে।  এই দুইটির মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখার জন্য স্ট্রিঙ তত্ত্ব প্রথমে প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এই কাজে স্ট্রিঙ তত্ত্ব তেমন ...

কণাতত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার গপ্পো

আঠারো আর উনিশ শতাব্দীতে নিউটনের ক্যালকুলাস, গতিবিদ্যা আর মহাকর্ষ তত্ত্ব নিয়ে অনেক গবেষণা শুরু হয়।  এই গবেষণাগুলো খুব সাফল্যের সাথে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিকে তাড়িৎ-চৌম্বক বিদ্যার দিকে নিয়ে যায়। ক্যালকুলাসের বিবর্তন হয় ধ্রুপদী ক্ষেত্র তত্ত্ব বা ক্লাসিক ফিল্ড থিউরীর মধ্যে। মজা হলো, যখন তাড়িৎ-চৌম্বক ক্ষেত্রকে যখন গণিতের সাহায্যে খুব ভালো ভাবে ব্যাখ্যা করা গেল, অনেক পদার্থবিজ্ঞনী ভাবা শুরু করলেন যে প্রকৃতিতে ব্যাখ্যা করার মতো আর কিছুই বোধহয় বাকি নেই! পদার্থবিজ্ঞানীরা যখন নিশ্চিত সময় কাটাচ্ছেন, তখনই আবিষ্কার হলো ইলেক্ট্রন। আর এর সাথে সাথে জন্ম হলো কণাতত্ত্ব। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গণিত জন্ম নিলো এই কণাদের আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্য। কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ করে ...

তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান কি?

স্যার আইজ্যাক নিউটনকে মনে আছে? তাঁর সময়ে ইউরোপের বড় বড় গির্জার মতো অসাধারণ স্থাপত্য নির্মাণের জন্য মানুষ বীজগণিত এবং জ্যামিতির ব্যবহার জানতো। গতিহীন-বেগহীন নড়াচড়া করে না এমন বস্তুদের নিয়ে কাজ করার জন্য বীজগণিত আর জ্যামিতি ভালো। কিন্তু যখন কোন গতিশীল, পড়ন্ত বস্তু (গ্রহ, চন্দ্র কিংবা কামানের গোলা) নিয়ে কাজ করতে হলে দরকার অন্য কিছুর। তখন নিউটন (এবং লাইবনিজ) আবিষ্কার করলেন ক্যালকুলাস। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানীরা প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয়কে ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন গণিতকে। নিউটনকে বলা হয় বিশ্বের প্রথমন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর সময়ে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানকে বলা হতো "প্রাকৃতিক দর্শন"। সবসময়েই সূর্য, গ্রহ, চাঁদ আর তারারা মানুষের কৌতুহল আকর্ষণ করে আসছে। একসময় ...