জ্যোতির্বিজ্ঞান

Top 25 Most Viewed Posts



Archives by Month:


Archives by Subject:

পৃথিবীতে এতো জল কি ধূমকেতুই নিয়ে এলো?

পানি, যাকে জীবন বলে জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, একভাগ স্থল। এ কথাটা সেই ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি। কিন্তু এতো জল এখানে এলো কি করে? প্রথম দর্শনে প্রশ্নটা হয়তো বোকার মতো মনে হবে। খিলখিল করে হেসেও দিতে পারেন। মনে হতে পারে, পৃথিবীতে পানি সবসময়েই ছিলো নাকি আসলে অন্য কোন জায়গা থেকে এসেছিলো এধরনের চিন্তা একমাত্র পাগলরাই করতে পারে। কিন্তু এরকম নিরীহদর্শন প্রশ্নগুলো মাঝে মাঝে নাকানী-চুবানী খাওয়ায়। হাওয়ার ২১ ভাগ অক্সিজেনের তলে ডুবে থাকতে থাকতে যেমন আমরা কখনোই চিন্তা করতে পারি না যে একসময় বায়ুমন্ডলে বলতে গেলে কোন অক্সিজেনই ছিলো না। আবার পৃথিবীর আদি প্রাণের উদ্ভব হয়েছিলো যে ব্যাক্টেরিয়া দিয়ে তাদের যে ...

২০১৩ – উজ্জ্বল ধূমকেতুদের বছর

ঐ ধূমকেতু আর উল্কাতে  চায় সৃষ্টিটাকে উল্টাতে। -কাজী নজরুল ইসলাম   ধূমকেতু নিয়ে কিছুদিন আগেও আমাদের মধ্যে একটা সংস্কার প্রচলিত ছিল, মানুষ ধূমকেতুকে হয় দুঃসময় না হয় নতুন সামাজিক পটপরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখত। তাঁর অনুবাদ-চর্চা নামক সঙ্কলনে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘অষ্টাদশ শতাব্দী পর্য্যন্ত সকল যুগের সাহিত্যেই দেখা যায় যে, ধূমকেতুকে লোকে তখন দুঃখের ভীষণ অগ্রদূত বলিয়া বিশ্বাস করিত... Milton বলেন যে, ধূমকেতু তাহার ভয়াবহ কেশজাল ঝাড়া দিয়া মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহ বর্ষণ করে। রাজা হইতে আরম্ভ করিয়া দীনতম কৃষক পর্য্যন্ত সমগ্র জাতি এই অমঙ্গলের দূতসকলের আবির্ভাবে ক্ষণে ক্ষণে দারুণতম আতঙ্কে নিমগ্ন হইত। ১৪৫৬ খ্রীষ্টাব্দে, হ্যালির নামে পরিচিত ধূমকেতুর পুনরাগমনে যেমন সুদূরব্যাপী ভয়ের সঞ্চার হইয়াছিল পূর্ব্বে আর ...

এ্যান্টি-ম্যাটার এবং এ্যান্টি-ইউনিভার্স-৬(শেষ পর্ব)

এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ ,২ ,৩ ,৪,৫) মূল : মিশিও কাকু Anti-Gravity And Anti-Universes ডিরাকের তত্ত্ব ব্যবহার করে, আমরা এখন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিঃ প্রতিবস্তুর মহাকর্ষের প্রতিরূপ কি হবে? প্রতি-মহাবিশ্বের অস্তিত্ব কি আছে? আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি যে, প্রতিকণার চার্জ সাধারণ বস্তুর চার্জের বিপরীত ধর্মী । কিন্তু এমন কিছু কণা আছে যাদের কোন চার্জ নাই (যেমন আলোক কণা ফোটন, অথবা মহাকর্ষের জন্য দায়ী গ্রাভিটন কণা) এরা নিজেরা নিজেদের প্রতিকণা । যেহেতু এরা নিজেরা নিজেদের প্রতিবস্তুর, তাই আমরা অন্যভাবে বলতে পারি, মহাকর্ষ আর প্রতিমহাকর্ষ (Anti gravity) একই বিষয় । মহাকর্ষের কারনেই প্রতিবস্তুর নিম্নে পতিত হবে, উপরে নয় (এটা পদার্থবিজ্ঞানীরা চিরন্তন ভাবে বিশ্বাস ...

এ্যান্টি-ম্যাটার এবং এ্যান্টি-ইউনিভার্স-৫

এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ ,২ ,৩ ,৪ ) মূল : মিশিও কাকু Founder Of Anti Matter প্রতিপরমাণু কি ? এটা চিন্তা করে বিস্মিত হতে হয় যে প্রকৃতি যথার্থ কোন কারণ ছাড়াই সাব-অ্যাটমিক কণাদের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছিল । আমরা এতোদিন জেনে এসেছিলাম প্রকৃতি সম্পূর্ণ মিতব্যয়ি, কিন্তু এখন আমরা প্রতিকণার কথা জানি আর তাই প্রকৃতিকে মনে করা হয় (অপ্রয়োজনীয়) বস্তুকে সবচেয়ে বেশি অপব্যয় করেছে । প্রশ্ন আসে যদি প্রতিবস্তু থেকে থাকে তাহলে কি প্রতিমহাবিশ্বও আছে? এই প্রশ্নের উত্তর পাবো আমরা প্রতিবস্তুর উৎপত্তিস্থল খুঁজে বের করার মাধ্যমে । সত্যিকারার্থে প্রতিবস্তুর আবিষ্কারের তারিখটি হচ্ছে ১৯২৮ সাল, পল ডিরাকের অসামান্য কাজ হতে । তাকে ভাবা হয় বিংশ ...

হলগ্রাফিক মহাবিশ্ব

বাস্তবতা একটি ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাম ছাড়া কিছুই নয় । অনেক পদার্থবিদরা এটা নিয়ে একমত । এটা আমাদের জন্য গ্রহণ করা কঠিন । কারণ এ ব্যাপারটা আমাদের জীবন আর বাস্তবতাকে অনেকটা ম্যাট্রিক্স মুভির বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেয় । ক্রেগ হোগান হলেন শিকাগোতে অবস্থিত ফারমিল্যাবের একজন জ্যোতিঃপদার্থবিদ । তিনি এবং তার দল একটি যন্ত্র বানাচ্ছেন । যন্ত্রটির নাম হলোমিটার । আমাদের বাস্তবতা কি সত্যই ম্যাট্রিক্স মুভির মত মোহাচ্ছন্ন কিনা তা এই যন্ত্রটি পরিমাপ করে দেখবে । সিমেট্রি ম্যাগাজিন হোগােনর কাজ নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে । সেখানে বলা হয়েছে , " স্থানকালের ধারণা এতটা মসৃণ নাও হতে পারে - এটা অনেকটা ডিজিটাল ছবির মত , যত ...

সিলিকন ভিত্তিক জীবনঃ বাস্তবতা আর সম্ভাবনা

সিলিকন ভিত্তিক কাল্পনিক  প্রাণ প্রাণ! এক অদ্ভুত বিস্ময় আমাদের পৃথিবীর জন্য। এই প্রাণ থাকাতেই আমরা মানুষ আমরা যর বস্তুর থেকে আলাদা। আমাদের হাসি-কান্না আনন্দ বিস্ময় সব কিছুই নিরধারন করে যেন এই প্রাণ আর সেটার স্পন্দন। এমনিতে প্রাণ বলতে আমরা মূলত বুঝি বাম হাতি অ্যামিনো এসিড আর প্রোটিন এর সমন্বয়ে গঠিত এক অজানা কুহেলিকা কে। যদিওবা এই প্রাণ এর রহস্য দিয়ে ঘেরা ডিএনএ আমরা বহন করে নিয়ে চলেছি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। চার ধরন এর ক্ষার আর এক ধরনের চিনি নিয়ে গঠিত এই ডিএনএ এর সবথেকে বড় অভিব্যাক্তি হচ্ছে বা এর সবথেকে বড় সত্য হচ্ছে এর মধ্যেকার কার্বন যৌগ। আমাদের দেহ এর ক্ষেত্রে যতগুলো MVP ...

মহাবিশ্বের আদি অন্ধকার গ্যালাক্সি সমূহ প্রথম বারের মত দৃশ্যমান হল বিজ্ঞানীদের কাছে।

সায়েন্স টুডের  যে প্রধান খবর টা কিছুদিন আগে পড়লাম তা হল ডার্ক বা অন্ধকার গ্যালাক্সি সমূহ এর প্রথম বারের মত সন্ধান পাওয়া। কয়েকদিন আগে এই খবর টা প্রকাশিত হয়েছিল সায়েন্স টুডে আর নিউজ বাইন । এই খবরটা পড়ার পরে আমি বাইরের সন্ধ্যাখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন দেখতে পেলাম মানুষের শত বছরের আকাঙ্খা কে। এই মহাকাশ কে জানার আকাঙ্খা এই মহাবিশ্ব কে জানার আকাঙ্খাকে। যার জন্য হাজার বছর আগের ব্যাবিলনের পুরোহিতেরা আকাশের দিকে তন্ময় হয়ে চেয়ে থাকতেন তাদের দেবতাদের মুখ কে দর্শন করার প্রত্যাশা নিয়ে। সেই মহাকাশ কে যুক্তি দিয়ে বোঝার প্রত্যাশা নিয়ে প্রথম বারের মত দেখেছিলেন গ্যালিলিও আজ থেকে তিনশ বছর ...

মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে (প্রথম কিস্তি)

          এই ছবিটা আমি ছোট থাকতে দেখেছিলাম। পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌঁছে এক পর্যটক তারকাখচিত গোলার্ধের সন্ধান পেয়েছে। কিন্তু সেই গোলার্ধ একটি দেয়ালের মত, সেই দেয়াল অনেকটা অলীক। তার মধ্যে দিয়ে মাথা বের করে সেই পর্যটক মহাশূন্যের ওপারে কি আছে সেটা দেখার চেষ্টা করছে।  তার কাছে মনে হচ্ছে আর একটি মেঘালোক যার মাঝে রয়েছে আর একটি সূর্য, আর একটি সৌর জগৎ। ছবিটা অনেক জায়গাতেই ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপের কাঠ-খোদাই কাজ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই উল্লেখে কোন শিল্পীর নাম নেই। তাহলে পনেরশো শতকের ইউরোপে ফ্ল্যাট আর্থ বা সমতল পৃথিবীর ধারণা কি বজায় ছিল? শুধু তাই নয় ছবিটিতে সব নক্ষত্ররা একটা তলে অবস্থিত যা ...

মহাবিশ্বের প্রভাত – পুণঃআয়নন

সমসাময়িক বিশ্বসৃস্টিতত্বের প্রধান দুটো প্রশ্নের একটি হল মহাবিশ্বের প্রভাত লগ্ন। আরও ভাল ভাবে বললে কখন ও কিভাবে প্রথম তারা ও গ্যালাক্সী সমুহ সৃস্টি হয়েছিল এবং মহাবিশ্বকে সর্বপ্রথম আলোকিত করেছিল। এসকল তারা-সৃস্টিশীল গ্যালাক্সী নিরপেক্ষ হাইড্রোজেন মেঘমালাকেও আয়নিত করতে শুরু করে আর এরই ফলে আজকের মহাবিশ্ব সম্পূর্ণ আয়নিত।   আজ থেকে প্রায় ১৪ কোটি বছর আগে এক মহাবিস্ফোরণের ফলে এই মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু। জ্যোতির্বিজ্ঞানে আমরা যত দুরের বস্তু দেখি সেটা সময়ের নিরিখে ততটা প্রাচীন। আমাদের মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন যে নিদর্শন পাওয়া যায় তা হল ২.৭ ডিগ্রী তাপমাত্রার পটভূমি বিকিরণ। সে সময় মহাবিশ্বের বয়স ছিল তিন লক্ষ বছর। এই আদি বিকিরণের যে ছবি পাওয়া ...

শুক্রের ট্রানজিট – আমাদের যা যা জানা দরকার

এমন ঘটনা বার বার আসে না। গত আটবছর আগে সে এসেছিলো। আবার আসবে শতাধিক বছর পর।   আগামী ৫/৬ জুনে পৃথিবী সেই জায়গাতে অবস্থান নেবে ওই ঘটনা দেখার জন্য। কোন ঘটনা? শুক্র গ্রহের ট্রানজিট। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই দুর্লভ ঘটনা ২১১৭ সালে আবার দেখা যাবে -- তার মানে পর্যবেক্ষণের জন্য এইবারই শেষ সুযোগ আমাদের। চলুন জেনে নেয়া যাক বিরল ট্রানজিট সম্পর্কে।   ট্রানজিট কি? শুক্রের কক্ষপথ পৃথিবীর চাইতে ছোট – কারণ সে সূর্যের অনেক কাছে। তার ২২৫ দিনে একবছর। তারমানে ২২৫ দিনে সে সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসে। সে হিসেবে বছরে অন্তত একবার শুক্রগ্রহ সূর্য আর পৃথিবীর ঠিক মাঝখানে আসার কথা। সূর্যগ্রহণে যেমন হয়, চাঁদ সূর্য আর ...

এ্যান্টি-ম্যাটার এবং এ্যান্টি-ইউনিভার্স-৪

এই সিরিজের অন্যান্য পোষ্টগুলো (১ , ২ , ৩)   মূল : মিশিও কাকু Naturally Occurring Antimatter আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিপরমাণু তৈরি করা একটি ব্যয়বহূল কাজ । যদি এমন হত পৃথিবীর বাইরে অর্থাৎ মহাশূণ্যে খূব সহজেই প্রতিপরমাণু পাওয়া যেত ? অনুসন্ধানকারী দল জানিয়েছেন যে ব্যাপারটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য পৃথিবীর বাইরে প্রতিপরমাণুর পরিমাণ (পরমাণুর তুলনায়) খুবই নগণ্য , যা পদার্থবিদদের একটু অবাকই করেছে । আমাদের এই বিশ্বজগতে প্রতিপরমাণু হতে পরমাণুর পরিমাণ বেশি যা ব্যাখ্যা করা একটু কঠিন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে পরমাণু এবং প্রতিপরমাণুর পরিমাণ ছিল সমান । আর এখন প্রতিপরমাণুর পরিমাণ কেন কম তা বিজ্ঞানীদের কাছে একটি ধাঁধা । সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ...